টেকক্রাঞ্চের বিশ্লেষণ

হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগে এআই অবকাঠামো গড়ছে টেক জায়ান্টরা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত উত্থান কেবল উন্নত এআই মডেল তৈরির প্রতিযোগিতাই নয়, বরং প্রযুক্তিটি পরিচালনার জন্য বিশাল অবকাঠামো নির্মাণের দৌড়কেও তীব্র করছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত উত্থান কেবল উন্নত এআই মডেল তৈরির প্রতিযোগিতাই নয়, বরং প্রযুক্তিটি পরিচালনার জন্য বিশাল অবকাঠামো নির্মাণের দৌড়কেও তীব্র করছে। মাইক্রোসফট, ওপেনএআই, এনভিডিয়া, ওরাকল, গুগল ও মেটার মতো বড় প্রযুক্তি কোম্পানি জিপিইউ, ক্লাউড পরিষেবা ও বিশাল ডাটা সেন্টারে হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে। খবর টেকক্রাঞ্চ।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও লেখক রাসেল ব্র্যান্ডম জানান, এআই প্রযুক্তি সচল রাখতে প্রচুর কম্পিউটিং শক্তি প্রয়োজন। ফলে এআই মডেলের সুবিধা নিতে গিয়ে টেক জায়ান্টগুলো একই সঙ্গে ডাটা সেন্টার ও ক্লাউড সিস্টেমের মতো প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের প্রতিযোগিতায় নামছে।

এনভিডিয়ার সিইও জেনসেন হুয়াং জানিয়েছেন, চলতি দশকের শেষে বিশ্বব্যাপী এআই অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ হবে ৩-৪ ট্রিলিয়ন ডলার। এখানে বেশির ভাগ অর্থ আসবে এআই কোম্পানিগুলো থেকে।

এদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, এআইয়ের জন্য তৈরি অতিরিক্ত কম্পিউটিং চাহিদা বিদ্যুৎ সরবরাহের সিস্টেম বা গ্রিডে অতিরিক্ত চাপ ফেলছে। একই সঙ্গে ডাটা সেন্টার ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত সুবিধাগুলোর ক্ষমতাও সর্বোচ্চ সীমার কাছে পৌঁছাচ্ছে।

বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি সংস্থাগুলো এআইয়ের বিকাশ ও অবকাঠামো উন্নয়নে বড় বিনিয়োগের মাধ্যমে আগামী প্রজন্মের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভিত্তি গড়ে তুলছে। এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হলো ২০১৯ সালে ওপেনএআইয়ে মাইক্রোসফটের ১০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ।

দুই প্রতিষ্ঠানের চুক্তিটি আধুনিক এআই বুমের সূচনা হিসেবে দেখেন অনেকে। এর মাধ্যমে মাইক্রোসফটকে ওপেনএআইয়ের একচেটিয়া ক্লাউড সেবা প্রদানকারী হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। এরপর আসে ওরাকলের উত্থান। ক্লাউড পরিষেবাভিত্তিক প্রযুক্তি কোম্পানিটি চলতি বছর জুনে ৩ হাজার কোটি ডলারের একটি ক্লাউড সেবা চুক্তি সম্পন্ন করেছে বলে জানা যায়। প্রথমে চুক্তির অংশীদারের নাম প্রকাশ করা হয়নি, পরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম নিশ্চিত করে ওপেনএআইয়ের নাম। চুক্তিটির মাধ্যমে ওরাকল গুগলের পাশাপাশি ওপেনএআইয়ের প্রধান হোস্টিং পার্টনার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এভাবে ওরাকল এআই শিল্পে ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান নিশ্চিত করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেহেতু এআই মডেল প্রশিক্ষণ ও বড় ডাটা প্রক্রিয়াকরণের মতো কাজে জিপিইউ ব্যবহার করা হয়, তাই এসব ল্যাব নিজেদের অবকাঠামো তৈরিতে এনভিডিয়ার গ্র্যাফিকস প্রসেসিং ইউনিট বা জিপিইউর ওপর নির্ভর করছে মূলত। জিপিইউর চাহিদার কারণে এনভিডিয়ার কাছে প্রচুর নগদ অর্থ জমা হয়েছে। ফলে কোম্পানিটি সে অর্থই আবার এআই শিল্পে নতুন বিনিয়োগ বা প্রকল্পে ব্যবহার করছে।

এরই মধ্যে বিশাল অবকাঠামো থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এআই প্রযুক্তি উন্নয়নে বিনিয়োগ আরো জটিল ও ব্যয়বহুল হচ্ছে। যেমন মেটা। কোম্পানিটির সিইও মার্ক জাকারবার্গ জানিয়েছেন, মেটা ২০২৮ সালের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রে অবকাঠামোয় ৬০০ বিলিয়ন বা ৬০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা করছে। গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের প্রথমার্ধেই (জানুয়ারি-জুন) ৩ হাজার কোটি ডলার অতিরিক্ত ব্যয় করেছে কোম্পানিটি। এর মধ্যে কিছু খরচ হয়েছে বড় ক্লাউড চুক্তিতে। যেমন গুগল ক্লাউডের সঙ্গে ১ হাজার কোটি ডলারের চুক্তি। তবে সবচেয়ে বড় অংশ বিনিয়োগ হচ্ছে দুটি বিশাল নতুন ডাটা সেন্টারে। এসব সেন্টার আগামী দিনের এআই সেবা ও প্রযুক্তি পরিচালনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবে কাজ করবে বলে আশ্বাস বিশেষজ্ঞদের।

আরও